হাশরের ময়দানে নূরের মুকুট: সৌভাগ্যের সেই প্রতীক্ষিত সম্মান
কিয়ামতের দিন—যে দিনকে ইসলামি পরিভাষায় বলা হয় হাশরের ময়দান—সেদিন সমগ্র মানবজাতি একত্রিত হবে মহান আল্লাহর সামনে। পৃথিবীর সব অর্জন, পদ-মর্যাদা, সম্পদ ও ক্ষমতা সেখানে কোনো কাজে আসবে না। কাজ দেবে কেবল ঈমান ও আমল। আর সেদিনের সবচেয়ে সৌভাগ্যের দৃশ্যগুলোর একটি হবে—নূরের মুকুটে ভূষিত হওয়া।
হাশরের ময়দান কী?
হাশরের ময়দান হলো সেই বিশাল সমাবেশস্থল, যেখানে আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ মানুষ পর্যন্ত সবাই উপস্থিত হবে। কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আছে, সে দিন হবে অত্যন্ত কঠিন ও ভীতিকর। মানুষ নিজের পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবে। কেউ কারও উপকার করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ অনুমতি দেন।
নূরের মুকুটের অর্থ ও তাৎপর্য
“নূর” মানে আলো, আর “মুকুট” মানে সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। নূরের মুকুট হলো এমন এক সম্মান, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। হাদিসে উল্লেখ আছে—যে ব্যক্তি কুরআন শিখে, আমল করে এবং অন্যদের শেখায়, কিয়ামতের দিন তার মা-বাবাকে নূরের মুকুট পরানো হবে। সেই মুকুটের জ্যোতি হবে সূর্যের আলো থেকেও উজ্জ্বল।
এটি কেবল বাহ্যিক অলংকার নয়; এটি এক মহান স্বীকৃতি—দুনিয়ায় কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার পুরস্কার।
কারা পাবেন এই সম্মান?
যারা কুরআন তিলাওয়াত করে ও তা বুঝে জীবন পরিচালনা করে
যারা কুরআন হিফজ করে ও অন্যদের শেখায়
যারা আল্লাহর পথে ধৈর্য, তাকওয়া ও সৎকর্মে অবিচল থাকে
এ সম্মান কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি পরিবারকেও মর্যাদাবান করে। সন্তান যদি কুরআনের পথে চলে, তার সুফল পায় মা-বাবাও।
আমাদের করণীয় কী?
হাশরের ময়দানে নূরের মুকুট পাওয়ার আশা করতে হলে আজ থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, তার অর্থ বোঝার চেষ্টা, আমল করা এবং সন্তানদের কুরআনের শিক্ষা দেওয়া—এসবই হতে পারে আমাদের মুক্তির পথ।
দুনিয়ার জীবনে আমরা অনেক কিছুর জন্য পরিশ্রম করি। অথচ চিরস্থায়ী জীবনের সম্মানের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা কতটুকু?
উপসংহার
হাশরের ময়দানে নূরের মুকুট কোনো কল্পকাহিনি নয়; এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুত সম্মান। সেই দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ। আসুন, আমরা কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করি, যেন একদিন আমরাও বা আমাদের প্রিয়জনরা সেই আলোকিত মুকুটের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks